Cinema Paradiso (1988) সিনেমা রিভিউ

Share This Post

Share on facebook
Share on linkedin
Share on twitter
Share on email

🎬 Movie ⭕ Cinema Paradiso (1988)

ইতালির সিসিলি অঞ্চলে ছোট্ট একটি শহর জিয়ানসালদো। শহরের বাসিন্দাদের মাঝে আনন্দের খোরাক একমাত্র সিনেমা হল৷ যেটির প্রজেকশনিস্ট হিসেবে কাজ করেন আলফ্রেডো নামক এক বয়স্ক লোক৷ আলফ্রেডো! জীবনের শুরুতে এক যুদ্ধ পেরিয়ে এসেছেন, জীবনের শেষ দিকে এসে আরেক যুদ্ধের ইতিবৃত্ত দেখছেন। এর মাঝে মহামন্দা, দারিদ্রতা তাকে জীবনে নিরামিষ করে তুলেছে৷ ছোট্ট বয়স থেকেই প্রজেকশনিস্টের কাজ করছেন৷ কাজের প্রতি অনিহা সত্ত্বেও জীবনের রুঢ় বাস্তবতায় ঠিকই হয়েছেন নানাবিধ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পোড় খাওয়া এক বুড়ো৷ জীবন সম্পর্কে যার সঠিক দৃষ্টিভঙ্গী অন্য একজনের জীবনে এনেছে পরম সাফল্য৷
সেই একজন! সালভাতোর ডি ভিতা! ছোটবেলা থেকেই যার সিনেমার সাথে গভীর সখ্যতা। এক সিনেমা ১০০ বার দেখলেও ক্লান্ত না হওয়া সালভাতোর তখন স্কুলে পড়া নিতান্তই বালক। তার এই সিনেমা প্রেম আরো গভীর হয় প্রজেকশনিস্ট আলফ্রেডোর সাথে বন্ধুত্বে৷ সে বন্ধুত্বে ভালোবাসা, বাৎসল্য, পিতৃস্নেহ, আবেগ মিলে মিশে একাকার। তবু এগুলোর মাঝে প্রত্যেকটা গূঢ় বিষয় প্রস্ফুটিত স্ব-উজ্জ্বলতায়।

ইতালির সিনেমা যতগুলো দেখলাম তার মাঝে এটা অন্যতম প্রিয় বলতেই হবে৷ এবং যেসব সিনেমা দেখে অতিশয় ভালোলাগার অনুভূতি আসে সেগুলোর মাঝে এটি শীর্ষ। নির্মল প্রেম, নির্ভেজাল বন্ধুত্ব, নিরাবেগ ভালোবাসা, সিনেমার প্রতি অত্যুগ্র আগ্রহ সবই প্রতিটি দর্শককে নিয়ে যাবে তার যাপিত জীবনের অতীতে৷ রিয়েলিস্টিক নস্টালজিয়া কোনো দুঃখ বেদনা নয় বরং উপভোগ্য করে দিবে শতগুণে৷

সিনেমা পারাদিসোর স্ক্রিপ্ট এবং পরিচালনায় ছিলেন গুইসেপ্পে টরনাটোরে৷ কিছুটা তার ছোটবেলাকার সিনেমার প্রতি ভালোবাসা থেকে, কিছুটা তার শৈশব কাটানো এলাকার বাসিন্দাদের সিনেমা হল গামীতার উন্মাদনায় অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি করেছেন এ স্টোরি৷ এমন এক সময় যখন পৃথিবী পরপর দুটি যুদ্ধে টালমাটাল! ছিল না কোনো টিভির ব্যবহার, ছিল না ডিভিডির আবিষ্কার তখন বিনোদন কেবল ওই সিনেমা হল৷ সেটি পারাদিসো না হয়ে আর কীইবা হবে!

স্টোরিকে অনবদ্য করেছে বালক সালভাতোর আর বয়স্ক আলফ্রেডোর বন্ধুত্ব৷ বয়স সীমার এ পার্থক্যে আসলে খুব কমই বন্ধুত্ব দেখা যায়৷ তবে আলফ্রেডোর সন্তানহীন জীবনে সালভাতোর যেমন ছিল পুত্রসম তেমনি যুদ্ধোত্তর সৈনিক বাবার অনুপস্থিতিতে আলফ্রেডোই হয়ে গিয়েছিল সালভাতোরের বাবার মতন। খাঁটি ভালোবাসার বিরাজমানতায়, শৈশবের উন্মাদনার মিশেলে, গ্রামীণ সামাজিকতায় এ গল্পটি শুধু জিয়ানসালদোর গল্পই নয়, বরং সারা বিশ্বের সাথে এর রয়েছে গভীর সামঞ্জস্য। তাই পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে থেকে, যেকোনো সময় যেকোনো দর্শক এ সিনেমা দেখলে সেটাকে তাৎক্ষণিক আপন করে নিতে পারে৷

একটি সিনেমা তখনই ভালো হয়, যখন দর্শক নিজেকে এর সাথে মিশিয়ে ফেলতে পারে৷ পরিচালকের আন্ডারস্ট্যান্ডিং এ এবং গল্পের গভীরতায় নিজেকে রিলেট করতে পারে৷ আর এ সিনেমাটির দারুণ স্টোরিটেলিং, নিখুঁত ক্লোজ শট, ইফেক্টস্ এবং অসাধারণ কন্টিউয়াটির ফলে দর্শকদের সে চাহিদাই পূরণ করতে সক্ষম যা একটি সিনেমাকে ভালো করতে প্রয়োজন৷

বিশেষ উল্লেখযোগ্য হলো এর মিউজিক স্কোর। যারা ডলার’স ট্রিলজি দেখেছেন, তারা সেটার অভিনব মিউজিকের সাথেও পরিচিত আছেন নিশ্চিত৷ এর মিউজিক এবং বিজিএমের দায়িত্বেও ছিলেন সেই একই ব্যাক্তি৷ এন্নিও মরিকনে। আমার সবিশেষ পছন্দের একজন মিউজিক কম্পোজার। গল্পের সাথে এত সুন্দর সাযোয্য মিউজিকের ব্যবহার উনি যে কিভাবে করেন তা আমার কাছে গভীর বিস্ময়।

পরিচালক সিসিলি ঘুরে প্রায় ৩০০ জন বালকের ছবি তুলে অবশেষে নির্বাচিত করেছিলেন বালক সালভাতোর ক্যাসিওকে বালক সালভাতোর ডি ভিতার রোলে৷ এটা তো আছেই, এছাড়া আলফ্রেডোর চরিত্রে ফিলিপ্পে নইরেত! আঃ কী অসাধারণ তার অভিনয়! তার দেহভাষ্যে যেন উঠে আসছিল জীবনের নানান গল্প। প্রতিটি ডায়লগে যেন ফুটছিল অনিন্দ্য সজীবতা! একেই বলে সিনেমা! যেমন তার গল্প তেমন তার অভিনয়৷ তার এমন তৃপ্তিদায়ক পারফরম্যান্স আমার চোখে লেগে থাকবে অনেক দিন৷

সিনেমা পারাদিসো মুক্তির সে’বছর একই সাথে অস্কারে এবং বাফটায় বেস্ট ফরেইন ল্যাংগুয়েজ ফিল্ম এর পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে৷

Director : Giuseppe Tornatore
Genre : Drama
Duration : 2h 53m
Cast : Salvatore Cascio, Philippe Noiret, Marco Leonardi, Jacques Perrin, Agese Nano, Antonella Attili, Pupella Maggio, Brigitte Fossey
Language : Italian, Sicilian
Country : Italy
Imdb : 8.5/10
Rotten tomatoes : 89%

©Rashan Faredi

More To Explore

Tangerines (2013)
Bengali
Flower Of Evil-cinemabaaz.xyz
Drama