The Godfather (1972)

The aging patriarch of an organized crime dynasty transfers control of his clandestine empire to his reluctant son.

9.2

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on linkedin

Movie

Don Vito Corleone, head of a mafia family, decides to hand over his empire to his youngest son Michael. However, his decision unintentionally puts the lives of his loved ones in grave danger.

The Godfather (1972) English Blu-Ray

♛♛ গডফাদার – দ্য বাইবেল অব সিনেমা ♛♛

হলিউডে এক কালজয়ী সিনেমা হয়ে আছে এই “দ্য গডফাদার” শুধু হলিউডই না, এর জনপ্রিয়তা আমেরিকা পেরিয়ে পুরো বিশ্বজুড়ে সমানতালে বিরাজ করছে৷ রিলিজের প্রায় ৫০ বছরের কাছাকাছি হয়ে যাচ্ছে তবু এর জনপ্রিয়তায় সামান্য পরিমানও ভাটা পড়েনি৷ এই মুভির দুনিয়াজোড়া সফলতার পিছনে আছে একজন মানুষের ঘাম ঝড়ানো পরিশ্রম। শত বাধা আর প্রতিকূলতা পেরিয়ে তার হাত ধরে “দ্য গডফাদার” পেয়েছে আজকের এই অবস্থান৷ তিনি আর কেউ নন, মুভিটির পরিচালক ফ্রান্সিস ফোর্ড কপোলা৷



১৯৬৮ সালে যখন প্রথম মারিও পুজো’র বইটি বের হয়, তখন থেকেই প্যারামাউন্ট পিকচার্স এর স্বত্ব কিনতে আগ্রহী ছিল৷ অবশেষে কয়েক বছরের মাথাতেই এই বইয়ের পুরো স্বত্ব ৮০,০০০ ডলারে তারা কিনে নেয়৷

বইয়ের মূল সময়কাল ১৯৪৫-৫৫ হলেও প্যারামাউন্টের অনুরোধে মারিও পুজো ১৯৭০-৮০ এর সময়কালের উপযোগী করে স্ক্রিপ্ট লিখে দেন। এরপর প্যারামাউন্ট ডিরেক্টর খুঁজতে থাকে৷ তাদের উদ্দেশ্য ছিল অখ্যাত এক পরিচালকের হাতে অল্প বাজেটে মুভিটি নির্মাণ করবে৷

তৎকালীন প্যারামাউন্ট প্রধান ফ্রান্সিস ফোর্ড কপোলাকে বাছাই করেন৷ কারণ কপোলা নিজেও ছিলেন একজন ইতালিয়ান আমেরিকান৷ মারিও পুজো ইতালিয়ান আমেরিকান হওয়াই তার বইতে স্বদেশী অনেক আচার আচরণের প্রাধান্য ছিল৷ সেসব বুঝার জন্য একজন ইতালিয়ান আমেরিকান পরিচালকই উত্তম৷ আবার তখন কপোলা ছিলেন পরিচালনা জগতে একদমই নবীন৷ এর আগে বড় কোনো প্রজেক্টে কাজ করার সৌভাগ্য হয়নি৷ তিনি আর জর্জ লুকাস মিলে শহরে একটা জোয়ট্রোপ চালাতেন৷ আয়-রোজগার তেমন ছিল না, সেজন্য প্রথম দিকে অপছন্দ হলেও প্যারামাউন্টের প্রস্তাবে রাজি হন৷

কপোলা একজন স্বাধীনচেতা মানুষ, তার মুক্তমন সিনেমা জগতেও ছিল সক্রিয়। সেজন্যই এই সিনেমা নির্মাণ শুরু করার আগেই শুরু হয়ে গেছিল কপোলা আর প্যারামাউন্টের মাঝে নানান বিরোধ।



প্যারামাউন্ট কাস্ট হিসেবে ভিটো কর্লিয়নির চরিত্রে মার্লোন ব্রান্ডোকে কখনোই চায়নি, কারণ ব্রান্ডো তখন উদাসিনতা আর বেপরোয়া কাজ কর্মের কুখ্যাতি অর্জন করেছিলেন৷ তার অহেতুক কোনো কাজে প্যারামাউন্ট আলাদা ডলার খরচ করতে চায়নি, ওদিকে ভিটো কর্লিয়নির ছোট ছেলে মাইকেল কর্লিয়নির চরিত্র নিয়েও বিরোধ বাধে, পরিচালকের পছন্দ আল পাচিনো, কিন্তু আল পাচিনো তখন একেবারেই নতুন। এর আগে মাত্র একটি সিনেমা সে করেছে৷ আবার প্যারামাউন্ট রাজি হলেও দেখা গিয়েছে আল পাচিনো স্ক্রিন টেস্টে ভালো করেনি৷ এসব অনেক বাধা সত্তেও কপোলা তার নিজ মতামতেই অটল থাকেন৷ আরেকটি বিরোধ ছিল স্ক্রিপ্ট নিয়ে৷ কপোলা চেয়েছেন বইতে যেভাবে আছে স্ক্রিপ্ট হবে সেভাবেই৷ কপোলার পাহাড় সমান অটলতায় আবারো টলে গিয়ে প্যারামাউন্ট পুনরায় স্ক্রিপ্ট লেখার জন্য মারিও পুজোর দারস্থ হয়৷ তিনি বইয়ের মূল ভাব বজায় রেখে ব্যাপ্তিকাল ১৯৪৫-৫৫ রেখে স্ক্রিপ্ট সাজান৷ কপোলা নিজেও আলাদা করে নিজের মত স্ক্রিপ্ট লিখেন৷ দুইজনের লেখা শেষ হলে এবার দুজন বসেন দুটি স্ক্রিপ্টের পর্যালোচনায়৷ এভাবেই তৈরি হয় যুগান্তকারী এই সিনেমার স্ক্রিপ্ট।

এবার যেহেতু স্ক্রিপ্ট তৈরি হয়ে গিয়েছে তাই এখন সিনেমা বানানোর পালা। প্রথম দৃশ্যেই দেখা যায় একজন নাগরিক তার মেয়ের ধর্ষণ চেষ্টার বিচার চাচ্ছেন ডন ভিটো কর্লিয়নির কাছে। ডনের অবয়ব যখন পর্দায় ফুটে উঠে, দেখা যায় তিনি শান্ত ভঙ্গীতে তার গদিতে বসে কোলে শুয়ে থাকা বিড়ালকে চাপর দিতে দিতে মনোযোগ দিয়ে অভিযোগ শুনছেন। কিন্তু দৃশ্যে বিড়াল আসল কোত্থেকে? বইয়ে বা স্ক্রিপ্টের কোথাও তো বিড়াল ছিল না৷ আসলে বিড়ালটি শুটিং এর সময় সেটে ঘুরাঘুরি করছিল, তাই ব্রান্ডো তাকে নিয়েই অভিনয় করেন। আর সেটাই হয়ে যায় সিনেমার মূল দৃশ্য৷ পরিকল্পনায় না থাকলেও আধো আধো আলো-ছায়ার অফিসে বিড়ালের মাথায় চাপরের দৃশ্যটা বরং ডনের ভাবগাম্ভীর্য আরো প্রগাঢ় করে তুলেছিল৷



শুটিং তো শুরু হয়ে গেল কিন্তু বড় বাধাটা তখনই এসেছিল৷ স্বয়ং মাফিয়া বস এই মুভি নির্মাণে হস্তক্ষেপ করলেন৷ তাদের ধারণা ছিল এই মুভি মুক্তি পেলে জনসাধারণ তাদের প্রতি বিরুপ মনোভাব পোষণ করবে, তাই তারা শুটিং বন্ধ করার জন্য পরিচালক প্রডিউসার সবাইকে ফোনে মারার হুমকি পর্যন্ত দিল৷ সেজন্য সিনেমার কুশলীরা তখন মাফিয়া ডন জো কলম্বোর দোয়ারে হাজির হন৷ তাকে আস্বস্ত করেন এই সিনেমায় তাদের কাজে কোনো বিঘ্নতা সৃষ্টি হবে না৷ তবে জো কলম্বোও শর্ত দেন, সেজন্য মুভির কোনো ডায়লগে যেন মাফিয়া বা কোসা নস্ত্রা শব্দগুলো না থাকে৷

এভাবে মুভির সাথে অন্তরঙ্গতা হয় মূল মাফিয়াদের। এমনকি জো কলম্বো তার গার্ডদেরকে শুটিং চলাকালে গার্ড দেওয়ার জন্য পাঠান৷ গার্ডদের মধ্যে এক সময়ের বক্সিং চ্যাম্পিয়ন মন্টানাকে কপোলার বিশেষ পছন্দ হয়ে যায়, সাথে সাথে তাকে দিয়ে দেন লুকা ব্রাসির চরিত্রটি। কার্লোর চরিত্রটিও মবস্টারদের থেকে নিয়েছিলেন কপোলা৷ এভাবেই গডফাদার শুধু একটি কালজয়ী সিনেমাই না বরং তৈরি করেছিল হলিউডের কিছু প্রতিষ্ঠিত অভিনেতাদেরও।

নিউ ইয়র্কের মাফিয়া ডন, গডফাদার ভিটো কর্লিয়নি সবেমাত্র প্রস্তুত হয়েছেন তার সাম্রাজ্য পুত্রের হাতে সমর্পন করবেন, ঠিক তখনই শহরের আরেকটি মাফিয়া পরিবার থেকে ড্রাগস ডিলিং এর সহযোগিতার প্রস্তাব আসে। কিন্তু তিনি এই বিজনেস করতে অস্বীকৃতি জানান৷ অসহযোগিতার ফলে উক্ত পরিবারটি ক্ষুব্ধ হয়ে আক্রমণ করে স্বয়ং ডনকেই৷ গুলির আঘাত খেলেও সে যাত্রায় বেঁচে যান ডন। এদিকে অস্থিরতায় থাকা তার পরিবার ব্যস্ত এর সমাধানে। এমন একটা সময়, যখন দেশ বিশ্বযুদ্ধের কারণে সবদিক থেকেই সংকটে ভুগছে তখন মাফিয়ার পকেটে পুরে থাকা রাজনীতিবিদ বা পুলিশ প্রশাসন বা অন্যান্য মাফিয়া পরিবার কেউই চাচ্ছে না খুনোখুনি হোক। ঠিক তখন দৃশ্যমান হন ডনের ছোট ছেলে মাইকেল। তার হাতে চলে সংকট থেকে বেরনোর উপায় আর নিজেদের অবস্থান পাকা করার খেলা।



আশ্চর্যের বিশয় হলো গডফাদারের শেষ দিকে যখন মার্ডারের শুটিং চলছিল তখন বাস্তবেও মাফিয়া ডন জো কলম্বো আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিলেন৷ কলম্বো পরিবার আস্বস্ত হলেও অন্যান্য মাফিয়া পরিবাররা মনে করতেন এই সিনেমার কারণে তাদের ক্ষতি হতে পারে, সেজন্য তারা জো কলম্বোকেই মেরে ফেলার চেষ্টা করে। যাতে বন্ধ করা যায় এর শুটিং৷

প্যারামাউন্ট পিকচার্স যে কাস্টগুলো নিয়ে কপোলার সাথে দ্বিমত করছিল, দেখা যায় তারাই বাজিমাত করে দিয়েছে৷ ভিটোর ভাঙ্গা বেকানো চোয়ালকে সুনিপুণ করে তোলার জন্য ব্রান্ডো মেকাপে কাটাতেন ৩-৪ ঘন্টা। তার গুরুগম্ভীর সাথে ভাঙা ভাঙা উচ্চারণে ডায়লগ প্রডিউস এনেছে ভিন্ন মাত্রা৷ এবং তার অসাধারণ পারফরম্যান্স তাকে নিয়ে গেছে সেরা অভিনেতা হিসেবে অস্কারের স্টেজে৷ অন্যদিকে আল পাচিনোর ছোট ছোট বাক্যে দেওয়া ডায়লগ আর দৃঢ়চেতা মনোভাব যোগ করেছে অভিনবত্ব ৷ প্রিন্স অভ ডার্কনেস খ্যাত গর্ডন উইলিসের আলো-আঁধারির সিন সিনেমাকে করেছে রহস্য থেকে আরো রহস্যময়।



এভাবেই গডফাদার হয়েছে আজকের গডফাদার, এই ফ্রান্সিস ফোর্ড কপোলা না থাকলে হয়তো গডফাদার হতো ৭০-৮০ দশকের ক্রাইম কেন্দ্রিক একশন নির্ভর কোনো সিনেমা। কিন্তু কপোলা বলেই সৃষ্টি হয়েছে বিশ্বের সেরা এডাপটেশন!!!

সেবা প্রকাশনীর ভক্ত হওয়াই এর মূল বইটি পড়ার সৌভাগ্য হয়েছে অনেক আগেই৷ এই গডফাদার নিয়ে আরো গুরুত্বপূর্ণ আগ্রহোদ্দীপক তথ্য জানা আছে কিন্তু বড় হয়ে যাওয়াই আর লেখা সমীচীন হচ্ছে না।

লিখেছেনঃ Rashan Faredi

Bangla Subtitle 

The Godfather (1972)-cinemabaaz.xyz

Country: USA

Genre: , ,

Director: Francis Ford Coppola

Writter: Mario Puzo (screenplay by), Francis Ford Coppola (screenplay by)

Actors: Marlon Brando, Al Pacino, James Caan

Award: Academy Award for Best Actor, MORE

Duration: 2h 55min