The Lighthouse (2019)

Two lighthouse keepers try to maintain their sanity while living on a remote and mysterious New England island in the 1890s.

7.8

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on linkedin

Movie

Two lighthouse keepers try to maintain their sanity while living on a remote and mysterious New England island in the 1890s.

The Lighthouse (2019)

২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দ্যা উইচ’ সিনেমার মাধ্যমে হরর সিনেমায় নতুন স্বরের উপস্থিতির জানান দেওয়া পরিচালক “রবার্ট এগার্স”, প্রায় ৪ বছর পর তাঁর দ্বিতীয় সিনেমা নিয়ে এলেন। এবং প্রথম সিনেমার মতোই পিরিয়ড হররে ভিড়লেন ফের। দ্বিতীয় সিনেমা ‘দ্যা লাইটহাউজ’কে বিশেষায়িত করা যেতে পারে- ‘এডগার অ্যালান পো’র সাহচর্যে ‘হারমান মেলভিল’ইয় ধারায় ‘আর্নেস্ট হেমিংওয়ে’কে ছুঁতে চাওয়া জেদি ছোকরা হিসেবে। ছোকরার এই জেদ ছড়িয়ে পড়েছে তাঁর দুই শিষ্যের মাঝেও। শিষ্য দুইয়ের হৈ-হট্টগোলে রাগে ক্রুদ্ধ হয়ে, যেন গ্রীক গডেরা এলেন দুজনকে উপযুক্ত শাস্তি দিতে। হয়তো তারই বহিঃপ্রকাশ স্বরূপ দুই শিষ্য নিজেদের স্বাভাবিক পৌরুষত্বের অহমিকায় অন্ধ হয়ে আর একাকীত্বের যন্ত্রণায় কঠিন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে চলেছেন।



‘দ্যা লাইটহাউজ’ প্রবল বাতাসের বেগে জানালার ভেঙে গুঁড়ো হওয়া কাঁচে হাত কাটার মতো আঘাত করে দর্শককে। শুরুতে শুধুই অ্যাবস্ট্রাক্ট ইমেজের ছড়াছড়ি। ১.১৯:১ এস্পেক্ট রেশিও বা অনেকটা চতুর্ভুজাকৃতির ‘মুভিটোন রেশিও’র ইমেজারিগুলো হাই কন্ট্রাস্টের সাদাকালো রঙে জাঁকালো অ্যান্টিকের অনুভূতি দেয়। জাহাজের ভেসে চলা, মেঘাচ্ছন্ন আকাশে দিগন্তরেখা মিলিয়ে যেতে যেতে ভেসে আসা সেই সাইরেনের শব্দ বিচলিত মনোভাব জাগায় দর্শকের মাঝে। (সাইরেনের সেই শব্দকে চমৎকার উপায়ে ব্যবহার করে গা-ছমছমে, ভীতিকর এক আবহ মনে জন্ম দিতে সফল হয়েছেন আবহসঙ্গীতের দায়িত্বে থাকা ‘মার্ক কোর্ভেন।)

Willem Dafoe and Robert Pattinson in The Lighthouse (2019)-cinemabaaz.xyz
Willem Dafoe and Robert Pattinson in The Lighthouse (2019)

তীরে ভেড়ানোর পর নৌকা থেকে নেমে দাঁড়ায় সিনেমার দুই চরিত্র। ভার্টিক্যাল অ্যাঙ্গেলে অনেকটা ধাক্কা দিয়েই যেন ফ্রেমে দুটো চরিত্রকে ঢুকিয়ে দেয়া হলো। একটা অস্বস্তিপূর্ণ ইঙ্গিত দেয় দৃশ্যটি। লাইটহাউজের অশুভ সীমানা যেন, এই দুইজনকে গ্রাস করার উদ্দেশ্যে আরো কাছে টেনে নিচ্ছে। ইংল্যান্ডের নির্জন এই দ্বীপে চার হপ্তার জন্য এসেছে দুজনে, লাইটহাউজের দেখভাল করবে বলে। বুড়ো ‘থমাস ওয়েক’ অবশ্য আগে থেকেই আছে। তরুণ ‘এফর‍্যাম উইন্সলো’ই মূলত চার হপ্তার জন্য এই বুড়োর তত্ত্বাবধানে কাজ করতে এসেছে। উইন্সলো নীরব স্বভাবের। বইপোকা। ওদিকে বুড়ো ওয়েক যতটা না বয়সের ধারে, তারচেয়েও বেশি স্বভাবের তেজে ‘একরোখা’। একসময় জাহাজের নাবিক ছিল। একরোখামির স্বভাবটা তাই ধাঁচেই আছে বুড়োর। সন্ধ্যা হতে না হতেই মদের বোতলে নাক ডুবিয়ে দেয় আর উইন্সলোর উপর খবরদারি করে বুড়ো। উইন্সলোর কাঁচা বয়স, রক্তে উষ্ণতা আছে। নীরব হলেও মিনমিনে নয়। চোয়াল শক্ত করতে জানে। তবে বুড়োর তেজের কাছে শেষ পর্যন্ত হাল ছেড়ে দেয়, ‘বস’ যেহেতু বুড়োই। বুড়ো এটা-ওটা-সেটা করার জন্য একের পর এক ফরমায়েশ দিতেই থাকে উইন্সলো’কে। না বলে উঠলে আবার, বেতন কেটে নেওয়ার, উপরমহলে নালিশ করার ভয় দেখায়। কিন্তু কোনভাবেই উইন্সলোকে লাইটহাউজের কাছে ঘেঁষতে দেয় না, বুড়ো ওয়েক। কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করে। সেইন্ট পিটার যেভাবে স্বর্গদ্বার পাহারা দেয়, ঠিক সেভাবে লাইটহাউজের সর্বোচ্চ তলায় দাঁড়িয়ে ওয়েক লাইটহাউজ পাহারা দেয়। তবে উইন্সলো ভেতরে ভেতরে রাগ পুষে রাখলেও হুকুমের পর্ব শেষে, একাকীত্বের বন্দিদশা হতে বাঁচতে বুড়ো ওয়েকের সাথে মদের বোতলে চুমুক দেয়। গলা ভেজায়। আবার ক্ষেপে উঠে একে অপরের উপর। উত্তপ্ত বাক্য ছুঁড়ে। আবার কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ভুল স্টেপে নৃত্যও করে। মেজাজ আর একঘেয়েমি থেকেই তাদের মধ্যকার ওই বিরোধের সৃষ্টি। কিন্তু ঝড় এসে সবকিছুকে আরো অস্বস্তিদায়ক করে তোলে। সময়মত তাদের খাবারের চালান এলো না। এদিকে মদ ছাড়া বাকি সবকিছুতে টান পড়েছে। উইন্সলোর অদ্ভুত ভিশনগুলো তাঁর মাথাটাকে আরো ভারি করছে। মদে টান পড়ায় কেরোসিনকে বিকল্প বানিয়ে তাতে গলা ভেজাচ্ছে মানুষ দুটি। পাগলামি আরো বাড়ছে। নিজেদের অতীতের বানোয়াট গল্পের মুখোশ খুবলে পড়তে শুরু করেছে। বাহিরে বাতাসের শো শো শব্দ আরো বেগবান হচ্ছে, বৃষ্টির ঝাপটা করুণ আর্তনাদে আঁচড়ে পড়ছে জানালায়, সাগরের গর্জন আরো ভয়ানক হচ্ছে। আর ঘরের ভেতরে কেরোসিনের প্রভাবে উত্তেজনা, আতঙ্ক আরো বাড়ছে মানুষ দুজনের মধ্যে। রহস্যের মোটা চাদরে ভারী হচ্ছে গোটা পরিবেশটা।


কেন্দ্রীয় চরিত্র মূলত দুটি হলেও, সত্যিকার অর্থে ৩টি। ‘লাইটহাউজ’ খোদ একটি ‘চরিত্র’ হিসেবে অটল দাঁড়িয়ে আছে। ওই টাওয়ার আর কটেজ, হেলানো এক করিডোর দ্বারা সংযুক্ত। ওপাশটায় রয়েছে সংরক্ষিত এক ইতিহাস।
সমাজ হতে বিচ্ছিন্ন একটি আদি পরিবারের সপ্তদশ শতকে আমেরিকায় ভিত্তি গাড়ার গল্পের সেই অভিষেক সিনেমা ‘দ্যা উইচ’-এর দুনিয়ার মতোই, ‘দ্যা লাইটহাউজ’-এর দুনিয়া নির্জলা প্রকৃতির এবং পরিচিত। কাঠ, কাঁচ, পাথর আর লোহার এই দুনিয়াকে ‘দ্যা উইচ’-এর মতোই বাস্তবতার উপাদান আর সময়ানুযায়ী যথাযথ বিবরণের মিশেলে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছেন, পরিচালক এগার্স। লাইটহাউজ রক্ষী দুজনের মোটা উল আর ওয়েলস্কিন ক্লথ হতে আমেরিকান লাইটহাউজ বোর্ড ম্যানুয়াল সবকিছুতেই সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম ব্যাখ্যা জড়িয়ে আছে, যা খুঁজে পাওয়া সম্ভব যথাযথ অনুসন্ধানে।

Robert Pattinson in The Lighthouse (2019)-cinemabaaz.xyz
Robert Pattinson in The Lighthouse (2019)

উষ্কখুষ্ক চুল, কীলক আকৃতির দাঁড়ির একসময়কার নাবিক আর লাইটহাউজের পুরোনো রক্ষী ওয়েক। শুধু রক্ষীই নয় বরং, লাইটহাউজের ঐতিহ্য, ভাষা, কুসংস্কার সবকিছু সে একজন অভিভাবকের মতো বয়ে নিচ্ছে। “ভুলেও সীগাল মারার মতো ভুল করবে না”, বলে নবিশ উইন্সলো’কে শাসায় সে। ওয়েক চিৎকার করে আদেশ ছোঁড়ে, কঠিন ভাষায় কথা বলে কিন্তু তাতে কাব্যিক মূর্ছনা যোগ করে, আপনমনে গেয়ে উঠে, খানিকটা আবেগীও হয়ে পড়ে মাতাল হয়ে, আবার সর্বদা গর্জন করার উদ্দেশ্যে খোলা রাখা মুখকে নরকের দ্বার বানাতে মিনিট সময়-ও নেয় না। অভিনেতা “উইলেম ডাফো” তাঁর তৎপর শারীরি ভঙ্গি, ঢেউ উঠা মুখ, ভীতিকর হাসি দিয়ে ‘ওয়েক চরিত্রটির মেজাজের সাথে নিজেকে খাপেখাপে মিলিয়ে নিয়েছেন। এবং চরিত্রের অস্থিতিশীলতাকে আরো নিখুঁত করে ফুটিয়ে তুলেছেন। ‘এফর‍্যাম উইন্সলো’ চরিত্রটিতে অভিনয় করেছেন “রবার্ট প্যাটিনসন।” (একের পর এক দুঃসাহসী সকল চরিত্রে অভিনয় করে নিজেকে অন্য এক অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছেন এই অভিনেতা। অথচ কেউ ভাবতেই পারে নি আজকের প্যাটিনসনকে !) ডাফো, প্যাটিনসন দুজনের অভিনয় দেখেই মনে হয়েছে, “গো বিগ অর গো হোম” এই নীতিকে যতখানি ব্যক্তিগতভাবে নেওয়া যায়, ঠিক ততখানি নিয়েই অভিনয় করেছেন দুজনে। প্রথমদিকের বেশিরভাগ সংলাপ ডাফো বাগিয়ে নিলেও, বলিষ্ঠ শারীরি অভিনয়ে দৃশ্যগুলোতে আলাদা স্তর এবং প্রগাঢ়তা যুক্ত করেছেন প্যাটিনসন। (তাঁর এই আঁটসাঁট চোয়ালের স্পর্ধাযুক্ত অভিনয় “দ্যায়ার উইল বি ব্লাড” সিনেমায় ‘ড্যানিয়েল ডে লুইস’-এর অভিনয়ের কথা মনে করায়। তবে এ কথা কোনভাবেই তুলনার সুর তুলতে নয়।) বিভিন্ন অদ্ভুত ভিশন আর ওয়েকের “হোয়াই ডিড ইউ স্পিল ইউর বিনস (?)” সংলাপ শুনে দুঃস্বপ্নের ঘোরে ধড়ফড়িয়ে উঠে উইন্সলো। ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে সে। এবং সেই দৃশ্যগুলোতে উইন্সলোর ভয় আর দ্বন্দ্বের নিখুঁত অভিব্যক্তি দেখতে পাওয়া যায় প্যাটিনসনের মাঝে।

Willem Dafoe in The Lighthouse (2019)-cinemabaaz.xyz
Willem Dafoe in The Lighthouse (2019)

“স্পিল ইউর বিনস” সংলাপের কথা যখন আসলোই তখন উল্লেখ্য হওয়ার দাবি রাখে প্যাটিনসনের স্বমেহনের সেই দৃশ্যটি- (খানিকটা অদ্ভুত শোনালেও বলতে হয়, ‘চলচ্চিত্রে’ অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্বমেহনের একটি দৃশ্য, ‘দ্যা লাইটহাউজ’ সিনেমার এই দৃশ্য।) অর্ধনগ্ন প্যাটিনসন একটি পুতুলের মৎসকন্যা হাতে নিয়ে দেখছে এবং সে-সুতোয় তাঁর কল্পনার রাজ্যে মৎসকন্যার একটি বাস্তবিক চিত্র ফুটে উঠছে বারেবারে এবং প্যাটিনসন স্বমেহন করে চলেছে। স্বমেহনের সর্বোচ্চ ধাপে মন্তাজের অভূতপূর্ব ব্যবহারে মৎসকন্যার জননেন্দ্রিয়, দৈত্যাকার কর্ষিকা, পিচ্ছিল শৈবালের ইমেজারি: সকলকিছুকে নিগমবদ্ধ করে কামজ আকাঙ্খাকে এগার্স, পারভার্স রূপ দেন। (খুবই ‘শকিং’ একটি দৃশ্য।) খানিকটা কৌতুকবোধ-ও জড়িয়ে আছে এই গোটা দৃশ্যটিতে।
‘দ্যা লাইটহাউজ’ সিনেমার রসবোধে ‘স্ল্যাপস্টিক’ ভাব আছে তবে এগার্স ভ্রাতৃদ্বয় তাদের ‘নিগূঢ়’ চিত্রনাট্যে সংলাপগুলোকে উনিশ শতকের সংলাপের ঢঙেই সহজাতভাবে থাকতে দিয়েছেন, সে-ঢঙকে অলংকৃত ও পুনর্জাগরণ করেছেন ‘দ্যা উইচ’-এর পিউরিটান ইংলিশের মতো। অ্যান্টিক, নৌটিক্যাল সংলাপে ভরপুর এই চিত্রনাট্য, যা-সাধারণ দর্শকের কাছে সমুদ্র জলরাশির অতলের সোডিয়াম ক্লোরাইডের গোটা ফ্যাক্টরি থেকেও ‘নোনতা’ ঠেকবে। লেখনীর এই ধাঁচে হেমিংওয়ে, মেলভিল, শেক্সপীয়রীয় অনুরূপতা পাওয়া যায়।


রবার্ট এগার্সের প্যারাডক্সিক্যালি সাধারণ কিন্তু খুব গূঢ়ভাবে রূপকতায় ভারী এই সিনেমা: গ্রীক পুরাণের দেবতা প্রমিথিউস, সমুদ্রদেবতা ট্রাইটন, অভিশপ্ত চরিত্র সিসিফাস, ‘হারমান মেলভিলে’র “মবি ডিক” উপন্যাসের চরিত্র ক্যাপ্টেন আহাব, ‘স্যামুয়েল টেইলর কোলরিজ’-এর কবিতা “দ্যা রাইম অফ দ্যা অ্যানশিয়েন্ট ম্যারিনার”- এ সবকিছুর দিকে মাথা নাড়িয়ে আভাস দেয়। তবে কারো/কোন রেফারেন্স পয়েন্টে আঁটকে থাকে নি এই সিনেমা, বরং নিজেই নিজের আদর্শ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ‘দ্যা লাইটহাউজ’ নিজেই নিজেকে আলাদা একটি জনরা/ধারা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। হালকা নাটকীয়তার ঢঙে বললে, “এ জনরা সুই জেনেরিস।” একটি ‘ভালো সিনেমা’কে টাইমলেস মনে হয়, যেন সেই ভালোলাগা সবসময় স্থায়ী হবে। তবে ‘গ্রেট সিনেমা’কে শাশ্বত/চিরন্তন মনে হয়, যেন সবসময় ওখানটাতেই তো ছিল। টার এন্ড পিচের টেক্সচারে, সমুদ্রের লোনা জলে ভেজানোমতন ঐশ্বর্যপূর্ণ, পোক্ত, একরঙা ইমেজারি (‘অ্যান্ড্রু উইথ’-এর চিত্রকর্মের মতোন) এবং সাইলেন্ট সিনেমার উইটি এস্থেটিকে (১৯২০ দশকের জার্মান এক্সপ্রেশনিস্ট এবং আমেরিকান সাইলেন্ট সিনেমার এস্থেটিকের সম্পূর্ণ প্রভাব ‘দ্যা লাইটহাউজ’-এ রয়েছে।) ‘দ্যা লাইটহাউজ’ পুরাকালীন অনুভূতি প্রদান করে, যেন পাথরে খোদাইকৃত কোন কর্ম। পৌরাণিক, ফোকলোর উপকথার বৃদ্ধ, ঈর্ষাপরায়ণ স্রষ্টাগণ এবং ক্রোধপরায়ণ সৃষ্টি এবং সূর্যের অত্যন্ত কাছাকাছি উড়ে বেড়ানোর ফলাফলের পুরাকালীন গল্পই বর্ণনা করে, দ্যা লাইটহাউজ। অথচ সেই উপকথার পুনর্বয়ানে যুক্ত, দুই পুরুষের এই হিস্টেরিক্যাল সাইকোড্রামা খুবই সমকালীন মনে হয়। এবং অবশ্যই তাতে মূল বিষয় বয়ে নিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা আছে।

এগার্স, তাঁর পরস্পরবিরোধী গল্পবয়ানে যেভাবে সমতা এনেছেন, নিপুণতার সাথে টেক্সচারাল উপাদানগুলো গঠন করছেন এবং একই সময়ে একটু একটু করে অভাবনীয় ‘ক্লাইম্যাক্সের’ দিকে যেভাবে এগিয়ে চলেছেন, সে-প্রশংসায় পুলকিত হয়ে উঠলে, অতিরঞ্জিত কিছু করা হবে না কোনভাবেই। দর্শককে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রাখতে পারার মাঝে খাঁটি শিল্পদক্ষতার একটা ভাব আছে। ‘দ্যা লাইটহাউজ’ দেখতে দেখতে দর্শক ভাবছে, কেউ একজন তো ধীরে ধীরে উন্মাদ হতে চলেছে অবশ্যই। তবে কে সে ? আমরা নই তো ? তেমন ভাবনার উদয় দর্শকের মাঝে জেগেছে, কারণ এগার্সের কুশলতায় ‘দর্শক’ শুরুর মুহূর্ত থেকেই নির্জলা দ্বীপের সেই বিচ্ছিন্ন দুনিয়ার একটি উপাদানই হয়ে উঠে। সেই মুহূর্ত থেকেই দু’টি চরিত্রের ‘দৃষ্টিভঙ্গি’ হয়ে ক্রমাগত এদিক-ওদিক হুঁটোপুটি খেলছে দর্শক বা খেলানো হচ্ছে দর্শককে। কখনো ওয়েকের দৃষ্টিভঙ্গিতে দর্শক নিজেকে আবিষ্কার করে এবং বিপদজনক ও উন্মাদ উইন্সলো’কে দেখে। আবার কখনো উইন্সলোর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে লাইটহাউজের সেই রহস্যময়ী আলোর ঘোরে সৎবিৎ হারিয়ে ফেলা ওয়েক’কে দেখে। (তবে সত্যিকার অর্থেই সেই আলো কীসের, তা জানানো হয় না দর্শককে।


একজন দক্ষ, মাস্টার ফিল্মমেকারের মতো ‘রবার্ট এগার্স’ দর্শককে তাঁর সিনেমার দুনিয়ায় টেনে নিয়ে তারপর ধীরে ধীরে থিতু হতে দিয়েছেন। আর মূল দুই চরিত্রের পাগলামিতে পাগল করেছেন একটু একটু করে। আকাশে চক্রাকারে ঘুরে বেড়াতে থাকা হিংস্র সীগাল, পাথরের উপর অবিরত আঘাত হানা ঢেউয়ের মতো দ্যা লাইটহাউজের ‘অনিশ্চয়তা’ই শেষ অব্দি একমাত্র নিশ্চয়তা হয়ে উঠে দর্শকের কাছে।

লিখেছেনেঃMD Mamunur Rashid Tanim

মুভিটির ডাউনলোড লিংক নিচে দেওয়া আছে। চাইলে দেখে নিতে পারেন অসাধারণ মুভিটি।

অন্যান্য মুভির জন্য ভিজিট করুন এই লিংকে। 

The Lighthouse (2019)-cinemabaaz.xyz

Country: USA

Director: Robert Eggers

Writter: Robert Eggers, Max Eggers

Actors: Robert Pattinson, Willem Dafoe, Valeriia Karaman

Award: Nominations for Academy Award for Best Cinematography, MORE

Duration: 1h 49min

العربيةবাংলা简体中文NederlandsEnglishFilipinoFrançaisDeutschहिन्दीItaliano한국어Bahasa MelayuPortuguêsРусскийEspañol